বাংলাদেশ সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের কাছাকাছি অবস্থিত, আর বাংলাদেশ জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (BNBC 2020) অনুযায়ী চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ দেশের কিছু অংশ উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকির জোনে পড়ে। ভূমিকম্পে যে ভবনগুলো ভেঙে পড়ে, তার বেশিরভাগই ডিজাইন ও নির্মাণের এড়ানো যায় এমন ভুলের কারণে।
বিল্ডিং কোড মেনে চলুন — BNBC 2020
জাতীয় ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ভূমিকম্পের ভারসহ কাঠামো ডিজাইনের ন্যূনতম নিয়ম ঠিক করে। একজন যোগ্য ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে আপনার ভবন ও মাটি অনুযায়ী স্ট্রাকচারাল অ্যানালাইসিস ও ডিজাইন করান।
শুরু মাটির নিচ থেকে
নরম বা আলগা মাটি কম্পন বাড়িয়ে দিতে পারে। সঠিক সয়েল টেস্ট করলে ইঞ্জিনিয়ার উপযুক্ত ফাউন্ডেশন বাছাই করতে পারেন। আরও পড়ুন সয়েল টেস্টের গুরুত্ব।
ভূমিকম্প সহনশীল ডিজাইনের মূলনীতি
- নিয়মিত ও প্রতিসম নকশা — অনিয়মিত আকৃতি কম্পনে মোচড় খায়।
- "সফট স্টোরি" এড়ানো — নিচতলা খোলা পার্কিং আর ওপরে ভারী তলা একটি সাধারণ দুর্বলতা; বিশেষ ডিজাইন দরকার।
- ডাক্টাইল ডিটেইলিং — সঠিক রিংয়ের দূরত্ব, হুক ও ল্যাপ দৈর্ঘ্য কংক্রিটকে না ভেঙে বাঁকতে দেয়।
- শক্ত কলাম, তুলনামূলক দুর্বল বিম — যাতে ভবন তলা ধরে ধরে ধসে না পড়ে।
- অবিচ্ছিন্ন লোড পাথ — ছাদ থেকে ফাউন্ডেশন পর্যন্ত বল যেন বাধাহীনভাবে যায়।
ডিজাইনের মতোই জরুরি সাইটের মান
কংক্রিট দুর্বল হলে বা রড ভুলভাবে বসালে সেরা ড্রয়িংও ব্যর্থ। তত্ত্বাবধানে নির্মাণ, পরীক্ষিত উপকরণ আর সঠিক কিউরিং অপরিহার্য।
পুরোনো ভবন? রেট্রোফিটিং বিবেচনা করুন
পুরোনো ভবন মূল্যায়ন করে সংস্কার ও রেট্রোফিটিং-এর মাধ্যমে শক্তিশালী করা যায় — যেমন কলাম জ্যাকেটিং বা শিয়ার ওয়াল যোগ — প্রায়ই নতুন করে বানানোর চেয়ে অনেক কম খরচে।
বাজেটে নিরাপত্তা রাখুন
কাঠামোর নিরাপত্তায় কখনো খরচ কমাবেন না। দেখুন নির্মাণের বাজেট কীভাবে করবেন।
আপনার ভবন নিয়ে চিন্তিত? মূল্যায়নের জন্য বিটেকের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলুন।
সম্পর্কিত: মানসম্পন্ন সিমেন্ট, রড ও ইট বাছাই এবং পুরোনো ভবন সংস্কার নাকি নতুন নির্মাণ।